মানুষের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাথরুমেই কেন স্ট্রোক হয়ে থাকে?

 

মানুষের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাথরুমেই কেন স্ট্রোক হয়ে থাকে?

স্ট্রোক কি?


মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্ত সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার ফলে যে দ্রুত জটিলতার দেখা দেয় তাকে বলা হয় স্ট্রোক।


স্ট্রোক সাধারণত বাথরুমেই বেশি হয়ে থাকে।

এর কারণ গুলো নিচে উল্লেখ করছি-


১. স্নান করার ভুল পদ্ধতি


কারণ, বাথরুমে ঢুকে স্নান করার সময় আমরা প্রথমেই মাথা এবং চুল ভেজাই, যা একমই উচিত নয়। এটি একটি ভুল পদ্ধতি।


এইভাবে প্রথমেই মাথায় পানি দিলে রক্ত দ্রুত মাথায় উঠে যায়। এতে কৈশিক ও ধমনী একসঙ্গে ছিড়ে যেতে পারে। ফলস্বরূপ ঘটে স্ট্রোক, অতঃপর মাটিতে পড়ে যাওয়া।

চিকিৎসকদের মতে, মাথায় প্রথমেই পানি দিলে সঙ্গে সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনের গতি বহু গুণ বেড়ে যায়। সে সময় বেড়ে যেতে পারে স্ট্রোকের ঝুঁকিও। তাছাড়া, মাত্রাতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে ছিড়ে যেতে পারে মস্তিষ্কের ধমনী।


স্নানের সঠিক নিয়ম:


প্রথমে পায়ের পাতা ভেজাতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে উপরের দিকে কাধ পর্যন্ত ভেজাতে হবে। তারপর মুখে পানি দিতে হবে। সবার শেষে মাথায় পানি দেওয়া উচিত।


২. তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠা:


যারা রাতে বা সকালে ঘুম থেকে খুব তাড়াহুড়া করে উঠে বাথরুমে যান সাধারণত তারাই এর ভুক্তভোগী হন। এ জন্য বেশ কিছু সচেতনতার কথা ও বলেছেন গবেষক দল।

আমরা হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে পড়ি যা ব্রেইনে রক্তের প্রবাহ হঠাৎ কমিয়ে দেয়। এটা আপনার ইসিজি প্যাটার্নও বদলে দেয়। হুট করে ঘুম থেকে উঠেই দাঁড়িয়ে পড়ার কারণে আপনার ব্রেইনে সঠিকভাবে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না এটাও একটা কারণ বলে গবেষণায় দেখা গিয়েছে।


৩. কোষ্ঠকাঠিন্য :

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হওয়াটা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ভোগেন তারা টয়লেটে গিয়ে স্বাভাবিক বাথরুম না হওয়ায় শরীরের ওপর অতিরিক্ত প্রেসারের কারণে স্ট্রোক করে থাকেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলে নরম খবার ও প্রচুর পানি পান করতে হবে।


৪. উচ্চরক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ :

উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপ দুটোই শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কারণ যা আপনার স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাবে।যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন তারা বাথরুমে স্ট্রোক করেন। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে খাবার, ব্যায়াম ও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে।


৫. রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল:

রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থাকলে হতে পারে স্ট্রোক অন্যতম প্রধান কারণ। কোলেস্টেরল, যা চোখে দেখা যায় না বা অনুভবও করা যায় না অথচ প্রতি মুহূর্তে ধমনীতে জমা হতে থাকে ধীরে ধীরে, যা জীবনের জন্য ঝুঁকিকর। রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল থকলে অনেক সময় বাথরুমে স্ট্রোক হয়ে থাকে।


Share It